প্যারেন্ট প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থায় গেল আইসক্রিম প্রস্তুতকারী বেন অ্যান্ড জেরি’স। অভিযোগে বলা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ থাকায় কোম্পানির সামাজিক নীতিমালাসংক্রান্ত একটি বিবৃতি প্রকাশে বাধা দিয়েছে ইউনিলিভার। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটন ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। খবর রয়টার্স।
সংশোধিত অভিযোগে বেন অ্যান্ড জেরি’স বলেছে, ইউনিলিভারের বৈশ্বিক মামলা পরিচালকের পরামর্শে একটি পোস্ট প্রস্তুত করেছিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও বোর্ড। পোস্টটি ট্রাম্পের অভিষেকের দিন প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। এতে গর্ভপাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সর্বনিম্ন মজুরি ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মতো অধিকারসংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেকের দুদিন আগে ইউনিলিভারের আইসক্রিম বিভাগের প্রধান পিটার টের কুলভ একতরফাভাবে বেন অ্যান্ড জেরি’সের পোস্টটি স্থগিত করেন। কারণ এতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
অবশ্য মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইউনিলিভার ও বেন অ্যান্ড জেরি’স।
২০২১ সালে প্রথমবার প্রতিষ্ঠান দুটির মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ওই বছর বেন অ্যান্ড জেরি’স তাদের চেরি গার্সিয়া, চাবি হাবি ও অন্যান্য আইসক্রিম ব্র্যান্ড ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে বিক্রি বন্ধ করে দেয়। বেন অ্যান্ড জেরি’স বলে আসছিল, অঞ্চলটিতে ইসরায়েলের দখলদারত্ব কোম্পানির মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
এ সিদ্ধান্তের ফলে কিছু বিনিয়োগকারী ইউনিলিভারের শেয়ার বিক্রি করে দেন। পাশাপাশি ইসরায়েলি ব্যবসা স্থানীয় লাইসেন্সধারীর কাছে বিক্রি করে দেয়ায় ইউনিলিভারের বিরুদ্ধে মামলা করে বেন অ্যান্ড জেরি’স।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এতে বেন অ্যান্ড জেরি’সের স্বাধীন পরিচালনা বোর্ড ও সামাজিক উদ্যোগকে সম্মান জানাতে এবং ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে রাজি হয় ইউনিলিভার।
এদিকে গত বছরের নভেম্বরে দায়ের করা আরেক মামলায় বেন অ্যান্ড জেরি’স অভিযোগ করে, ইউনিলিভার তাদের স্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেয়ার হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রতি সমর্থন ও ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে দেয়া বিবৃতি প্রকাশে বাধা দিয়েছে।
সাম্প্রতিক মামলায় বেন অ্যান্ড জেরি’স আদালতের কাছে তাদের বোর্ডকে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনায় স্বাধীনতা দেয়ার আদেশ চেয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে বেন অ্যান্ড জেরি’সের নির্বাচিত গ্রুপকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধের প্রতিশ্রুতি পূরণে ইউনিলিভারকে নির্দেশ দেয়ার আবেদন করেছে।
এসব ঘটনার মাঝে ইউনিলিভারের বৈশ্বিক বিক্রিতে পতন ঘটে। কোম্পানির পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে গত বছর বেন অ্যান্ড জেরি’সসহ নিজেদের আইসক্রিম ব্যবসা পৃথক করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে পণ্য তালিকা সরলীকরণ ও খরচ কমানোর পরিকল্পনা নেন এ ভোক্তাপণ্য জায়ান্ট। তবে সর্বশেষ মামলা সে পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও করপোরেট গভর্নেন্স বিশেষজ্ঞ চার্লস এলসন বলেন, ‘ইউনিলিভারের পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হবে না। কেননা কোনো ব্যবসায় অনিশ্চয়তা থাকলে এটি বিক্রি বা পৃথক করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি ব্যবসার মূল্যায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’